রীতিমতো ডিপ্রেশনে পরে গিয়েছিলাম : নিশি হানিফ

সাকিব আল রোমান :

নিশি হানিফ। একজন নারী উদ্যোক্তা। দাম্পত্য জীবনে তিনি চার সন্তানের জননী। ভার্চুয়াল জগতে ৩টি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। ‘কারুকাব্য’ ও ‘টিএল এক্সপ্রেস কুরিয়ার’ ও ‘ফুড কার্ট’ নিয়ে কাজ করছেন নিশি হানিফ।
উদ্যোক্তা হয়েছিলেন ২০১৩ সালে। অনলাইনে তুমুল জনপ্রিয় হয়েছেন ছোট-বড় সকলের পাশে থেকে কিছু করার চেষ্টা চালিয়ে। স্যোশাল মিডিয়ার ফেসবুকে উদ্যোক্তাদের একত্রিত রাখতে কাজ করছেন ‘উদ্যোক্তা মেলা’ নিয়ে। বর্তমান কোভিট-১৯ পুরো বিশ্বকে ধমকে দিয়েছে। কেমন আছেন তরুন প্রজন্মের উদ্যোক্তারা তা জানতে যোগাযোগ করেছিলাম ‘কারুকাব্য, ফুড কার্ট ও টিএল এক্সপ্রেস কুরিয়ার’ পরিচালক নিশি হানিফের সঙ্গে।

প্রশ্ন : কোভিট-১৯ মহামারীতে কেমন আছে নিশি হানিফ?
নিশি হানিফ : বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি সবাইকে নাড়া দিয়েছে। প্রভাব যে আমাদের উপর আসেনি তা কিন্তু নয়। তবে খুব একটা বাজে অবস্থায় আছি তাও বলা যাবে না। শতবছর পরে প্রকৃতি একবার তার ভয়ংকর রূপ দেখায় এটা কয়েক শতক থেকেই হয়ে আসছে। আমি চেষ্টা করেছি নিজে ভালো থেকেও কিভাবে আশেপাশের মানুষকে সাহায্য করা যায়। আমার সাধ্য অনুযায়ী আমি পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।
প্রশ্ন : উদ্যোক্তা হওয়ার শুরুটা জানতে চাই…
নিশি হানিফ : আমার ছোট ছোট দুইটা বাচ্চা নিয়ে কিছু করতে পারবো কিনা জানতাম না। কিন্তু কাজ টা দরকার ছিল অনেক। আমার পরিবার এর জন্য, নিজের জন্য কিছু করার ইচ্ছা ছিল। এরপরই শুরু করলাম জীবনযুদ্ধ। আমাদের সময়টাতে এতোটা সহজ ছিল না বিজনেস করা। সত্যি বলতে নিজের একটা মোবাইল পর্যন্ত ছিল না।

প্রশ্ন : উঠে আসার গল্পটা জানতে চাই
নিশি হানিফ : স্বামীর মোবাইল দিয়ে কাজ করতাম আর ভরসা ছিল ল্যাপটপ। দুইবছর অফলাইন এ যুদ্ধ করে দিশা পাচ্ছিলাম না৷ অনলাইন এর চেষ্টাটা শুরু হয় ২০১৫-তে এসে। খুবই অদ্ভুত ভাবে নিয়তির খেলায় ঘুরে গেল জীবন। এক ফেসবুক গ্রূপের এডমিনের রিভিউতে পরের দিন থেকে প্রচুর অর্ডার আসা শুরু হলো। হুট করেই শুরু হয়ে গেলো আমার অনলাইন জীবন।

প্রশ্ন : কারো সমর্থন…
নিশি হানিফ : বড় ভাবী নতুন মোবাইল কিনে তার পুরাতন মোবাইলটা আমাকে গিফট করে দিলেন। তখনই পুরোদমে শুরু হলো অনলাইনের জগতে নিজেকে খাপ খাওয়ানো। আস্তে আস্তে অনেক কিছু বুঝে উঠলাম, অনেক কিছু নতুন জানলাম, অনেক কিছু শিখলাম৷ সেই যে শুরু পথচলা, আলহামদুলিল্লাহ এখনো চলছে ।

প্রশ্ন : বিশেষ কোন স্মৃতি?
নিশি হানিফ : ২০১৮-তে আবারও কনসিভ করলাম। তাও আবার জমজ বাচ্চা৷ প্রেগন্যান্সির শুরুতেই এত বেশি অসুস্থ হয়ে উঠলাম যে যেই মেয়ে ২৪ঘন্টা খেটে নিজের একটা অবস্থান তৈরি করেছে, সে নিজের পায়েও দাঁড়াতে পারতো না সহজে। পুরোপুরি বেড রেস্টে চলে গেলাম। ৯টা মাস কাজ থেকে দূরে থেকে রীতিমতো ডিপ্রেশনে পরে গিয়েছিলাম ।

প্রশ্ন : কর্মজীবী নিশি হানিফ কেমন?
নিশি হানিফ : কাজ আমার অনেক প্রিয়। কারন, নিজের স্বাধীনতা, খুশি সবটাই আমি কাজের ভেতর পাই । কিন্তু টুইন প্রেগন্যান্সি হওয়ার কারণে নিজেই বুঝে উঠতে পারছিলাম না আমি কি আসলে কন্টিনিউ করতে পারবো? কিন্তু ৯ মাসের মাথায় বাবুরা হওয়ার ঠিক ১২ দিনের মাথায় শুরু করলাম আবার নতুন করে পেইজের কাজ। আগে চলছিলো এক ধরনের কাজ, এবার হাজবেন্ডের সাথে মিলে আর নিজের প্রচেষ্টায় শুরু করলাম একবারে তিন ধরনের কাজ।

প্রশ্ন : নিশির জীবনে চ্যালেঞ্জিং বিষয় কোনটি?
নিশি হানিফ : হাজবেন্ডের নতুন বিজনেস কি করলে ভাল হবে বুঝতে না পারায় শুরু করতে বললাম কুরিয়ার বিজনেস। যেহেতু অনলাইন জগতে অনেক বছর ধরে আছি তাই বেশ কিছু মানুষ চিনতো আমাকে। সেই সুবাদে পরিচিতদেরকে নক করার পরের দিন থেকে অনেকেই দিলো পার্সেল। এই কাজটা অনেক চ্যালেঞ্জিং। শুরু করার কিছু দিনের মধ্যেই বুঝে উঠলাম এটা খুব সহজ জিনিস না। অনেক মানুষের ভরসা আস্থার জায়গা এটা। একেকটা উদ্যোক্তা তাদের পরিশ্রমের সবটুকু তুলে দেয় আমাদের হাতে। আমাদের একটু ভুলে তাদের ক্ষতি বেশি হবে। তাই সেই ভরসার জায়গায় আমাদের অনেক বেশি মন প্রাণ দিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা কাজ করে যাচ্ছি রাত দিন। হয়তো মানুষের ভরসার জায়গা তৈরী করতে সক্ষম হয়েছি।

প্রশ্ন : কোন বিজনেস করে নিশি হানিফ কমফোর্টেবল?
নিশি হানিফ : এটা খুবই জটিল প্রশ্ন! আসলে সত্যি বলতে আমার এই তিনটা বিজনেসের প্রত্যেকটা আমার সন্তানের মত। একটু একটু করে বড় করছি। সবশেষে হাত দিলাম “ফুড কার্ট” নামের পেইজে। যেটা নিয়ে কিছু না বললেই না৷ ভালবাসা এবং জেদ থেকেই খুব শখ করে ৭ বয়াম আচার নিয়ে শুরু করেছিলাম পেইজটা। প্রথমদিনেই এলো ২৫ টা অর্ডার। সেই যে আচার নিয়ে শুরু, এখন আস্তে যোগ হচ্ছে অর্গানিক অনেক জিনিস। আলহামদুলিল্লাহ, বেশ ভালোই সাড়া পাচ্ছে ফুড কার্ট।
প্রশ্ন : ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
নিশি হানিফ : সন্তানদের মানুষের মত মানুষ করতে চাই। স্বামীর সাথে এভাবেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে ইনশাআল্লাহ একদিন আমার এক ছাদের নিচেই অনেক ধরনের বিজনেস করবো।

পূর্ববর্তী পড়ুন

মিথিলার তাহসানকে নিয়ে ‘তিন লাইন’, শুনলে অবাক হবেন যে কেউ!

পরবর্তী পড়ুন

আবারো বাড়তে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nine − 4 =

সর্বাধিক পঠিত